“এ পাপ জগতে মরিতে কি কালকূট পেলে না খুঁজিয়া”- কায়কোবাদের মুখে উচ্চারিত এই কথাগুলোর মধ্য দিয়েই যেন ফুটে ওঠে ‘কালকূট’ শব্দটির ভয়াবহতা। আজ আমরা জানবো এই তীব্র বিষের নাম, ‘কালকূট’ শব্দটি সম্পর্কে বিস্তারিত।
কালকূট শব্দের অর্থ কি
বাংলা ভাষায় ‘কালকূট’ শব্দটি একটি বিশেষ্য পদ। এটি ‘তীব্র বিষ’ বা ‘গরল’ অর্থে ব্যবহৃত হয়। অর্থাৎ যে বিষ খুবই প্রাণঘাতী, মুহূর্তের মধ্যে প্রাণনাশ ঘটাতে সক্ষম, তাকে ‘কালকূট’ বলে।
কালকূট শব্দের উৎপত্তি
‘কালকূট’ একটি তৎসম শব্দ। দুটি সংস্কৃত শব্দ, ‘কাল’ ও ‘কূট’ মিলে ‘কালকূট’ শব্দটি গঠিত হয়েছে।
- কাল = মৃত্যু, কালো, বিষ
- কূট= চূর্ণ, গুঁড়া
অর্থাৎ ‘কালকূট’ শব্দের অভিধায় মৃত্যু, কালো এবং বিষের গুঁড়া/চূর্ণ – এই তিনটি বিষয়ের ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
কালকূট শব্দের সমার্থক শব্দ
কালকূট শব্দের কিছু সমার্থক শব্দ হল:
- বিষ
- গরল
- হলাহল
- ক্রিয়া
- জীবঘ্নী
কালকূট শব্দের ব্যবহার
‘কালকূট’ শব্দটি বিভিন্নভাবে ব্যবহৃত হতে দেখা যায়।
- সরাসরি অর্থে: “সাপের কালকূটে তার মৃত্যু হয়েছিল”।
- রূপক অর্থে: “ মিথ্যার কালকূট সমাজকে গ্রাস করে ফেলছে”।
- প্রবাদে: “বিষের ঔষধ বিষ, কালকূটের ঔষধ কালকূট”।
কালকূট সম্পর্কে কিছু তথ্য
- পৌরাণিক তাৎপর্য: হিন্দু পুরাণ অনুসারে, সমুদ্র মন্থনের সময় যে ১৪টি রত্ন উঠে আসে তার মধ্যে একটি হলো কালকূট বিষ।
- ভাষাগত বৈচিত্র্য: কালকূট শব্দটি শুধুমাত্র বাংলাতেই ব্যবহৃত হয় না, এটি হিন্দি, মারাঠি, গুজরাটি ইত্যাদি ভাষাতেও ব্যবহৃত হয়।
উপসংহার: ‘কালকূট’ শব্দটি বাংলা ভাষার একটি সমৃদ্ধ শব্দ যার একটি ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক পরিচয় রয়েছে।