‘কনক’! শব্দটি শুনলেই মনে জেগে ওঠে এক বিচিত্র আভা। হলুদ রঙের ঝলকানি যেন ভেসে ওঠে চোখের সামনে। বাংলা ভাষার একটি অতি পরিচিত শব্দ কনক। এর মূল শব্দ সংস্কৃত ‘कनक’। আভিধানিক অর্থে কনক মানে সোনা, স্বর্ণ। কিন্তু এর তাৎপর্য আরও ব্যাপক।
কনক শব্দের অর্থ
কনক শব্দের প্রধান অর্থ হলো স্বর্ণ। এর আরও কিছু অর্থ রয়েছে। যেমন:
- গম
- সোনালী রঙ
- উজ্জ্বল
- প্রভাময়
- দ্যুতিমান
কনক শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ
কনক শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ হল Gold। এছাড়াও,
- Golden
- Brilliant
- Radiant
- Luminous
শব্দগুলো কনকের ইংরেজি অর্থ হিসেবে ব্যবহার করা যায়।
কনক শব্দের পদের নাম
কনক শব্দটি মূলত একটি বিশেষ্য পদ। তবে বিশেষণ পদ হিসেবেও এর ব্যবহার রয়েছে।
বিশেষ্য পদ হিসেবে:
- সোনা
- গম
বিশেষণ পদ হিসেবে:
- স্বর্ণবর্ণ
- উজ্জ্বল
কনক শব্দের ব্যবহার
বাংলা সাহিত্যে কনক শব্দের বহুল ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। কবিতা, গান, গল্প, উপন্যাস সর্বত্রই এর উপস্থিতি।
কিছু উদাহরণ:
- “ক্ষেতের সোনালী কনক কাটাবার সময় হলে।” – রাহুল সাংকৃতায়ন
- “চুম্বন মধু কনক হাস্য বিতরিল তারা কত।” – মোহিতলাল মজুমদার
- “অমনি রমণী কনকদণ্ড আঘাত করিল ভূমে।” – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
কনক শব্দ দিয়ে গঠিত কিছু শব্দ
বাংলা ভাষায় এমন অনেক শব্দ আছে যেগুলো কনক শব্দ দিয়ে গঠিত।
কিছু উদাহরণ:
- কনকচূর্ণ
- কনকলতা
- কনকাক্ষী
- কনকরেখা
- কনকপ্রভ
- কনকমুকুট
- কনকক্ষার
- কনকদণ্ড
- কনকাঞ্চল
এই তালিকা দেখেই বোঝা যায়, কনক শব্দ কতটা সমৃদ্ধ।
কনক শব্দের সাথে সম্পর্কিত প্রবাদ-প্রবচন
শুধু সাহিত্য নয়, লোকজীবনেও কনক শব্দটির প্রভাব রয়েছে।
- সোনায় সোহাগা, কয়লায় কালি।
এই প্রবাদটি দেখায়, সৎ সঙ্গে সুফল আর অসৎ সঙ্গে কুফল আসে।
পরিশেষে বলা যায়, কনক শব্দটি শুধু একটি শব্দ নয়, এটি আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ধারক।